বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট: রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের চাপ
বর্তমানে বাংলাদেশ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হ্রাস এবং যুব বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতির ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৪ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৭৮% এ নেমে আসে, যা গত তিনটি ত্রৈমাসিকের মধ্যে সবচেয়ে কম। এই প্রবৃদ্ধির নিম্নগামী প্রবণতা মূলত উৎপাদন খাতের সংকোচন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের অস্থিতিশীলতার কারণে। একদিকে, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ১৪% ছাড়িয়ে গেছে, অন্যদিকে সাধারণ মুদ্রাস্ফীতি ১১.৬৬% এ পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ব্যাপকভাবে কমেছে। বর্তমানে এটি ২০.৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা দুই বছরের মধ্যে অর্ধেকেরও কম। এর ফলে টাকার অবমূল্যায়ন বাড়ছে, যা আমদানি খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র করছে।
এছাড়াও, বাংলাদেশের যুব সমাজ বেকারত্বের চাপের মধ্যে আছে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৬% পৌঁছেছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই অবস্থা দেশের ভবিষ্যত কর্মশক্তির জন্য একটি বড় হুমকি।
রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করছে। গত বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছেন। এই পরিবর্তন দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। এতে সরবরাহ চেইন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসছে। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (EIB) বাংলাদেশে তার বিনিয়োগ দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিনিয়োগ গ্রীন এনার্জি, নিরাপদ পানি এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রকল্পগুলিতে নিবদ্ধ থাকবে।
অতএব, বাংলাদেশ বর্তমানে একাধিক অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করছে, তবে একে কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন গভীর সংস্কার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

